দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৩ জুলাই) ন্যাশনাল জুরি অব ইলেকশনস (জেএনই) চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে।
গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার (রান-অফ) নির্বাচনে বামপন্থী প্রার্থী ও কংগ্রেস সদস্য রবার্তো সানচেজকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন ৫১ বছর বয়সী কেইকো ফুজিমোরি।
চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ফুজিমোরি পেয়েছেন ৯২ লাখ ২৩ হাজার ভোট, আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রবার্তো সানচেজ পেয়েছেন ৯১ লাখ ৭৩ হাজার ভোট। অর্থাৎ প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
বিজয়ের ঘোষণা পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ফুজিমোরি বলেন, “একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।” তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব, বিনয় ও জনগণের প্রতি গভীর অঙ্গীকার নিয়ে তিনি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে সংলাপ ও অংশগ্রহণমূলক শাসনের মাধ্যমে নতুন সরকার পরিচালনার প্রতিশ্রুতিও দেন।
কেইকো ফুজিমোরি পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে আলবার্তো ফুজিমোরি ১৬ বছর কারাভোগ করেছিলেন।
এবারের নির্বাচনের প্রথম দফা অনুষ্ঠিত হয় গত এপ্রিলে। তবে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি হন কেইকো ফুজিমোরি ও রবার্তো সানচেজ। ৩৩ জন প্রার্থীকে পেছনে ফেলে তারা রান-অফে জায়গা করে নেন।
তবে এবারের নির্বাচন ঘিরে বিতর্কও ছিল। ব্যালট বিতরণে বিলম্ব, দীর্ঘ সময় ধরে ভোট গণনা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ প্রশ্ন তোলে। রবার্তো সানচেজ ভোট গণনায় অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ করলেও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন পর্যন্ত ভোট কারচুপির কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রবাসী পেরুভিয়ানদের ভোট ফুজিমোরির বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর রবার্তো সানচেজের সমর্থকদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে কেইকো ফুজিমোরি দেশকে রাজনৈতিক বিভাজন থেকে বের করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর অঙ্গীকার করেছেন।
আগামী জুলাইয়ের শেষ দিকে পেরুর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে কেইকো ফুজিমোরির। তাঁর এই জয়কে লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী রাজনীতির নতুন অগ্রযাত্রা এবং পেরুর অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের পুনরাগমন হিসেবে দেখা হচ্ছে।