শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে আর্জেন্টিনা-স্পেন: ইতিহাস, আবেগ আর নতুন এক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের অপেক্ষা

স্পোর্টস ডেস্ক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্ব আজ তাকিয়ে আছে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দিকে। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। শ্রেষ্ঠত্বের এই মহারণে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ভিন্ন প্রজন্ম, দুই ভিন্ন দর্শন এবং দুই ফুটবল পরাশক্তি।

আর্জেন্টিনার সামনে টানা দ্বিতীয়বার এবং ইতিহাসের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ। আর স্পেন চাইছে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি ঘরে তুলতে।

সব আলো অবশ্য দুই তারকার দিকেই। এক পাশে বিদায়ী অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়া লিওনেল মেসি, অন্য পাশে বিশ্ব ফুটবলের নতুন বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল। এক প্রজন্মের সিংহাসন থেকে আরেক প্রজন্মের উত্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছে এই ফাইনাল।

ইতিহাস কী বলছে?

উত্তর আমেরিকার মাটিতে এখন পর্যন্ত কোনো ইউরোপীয় দল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। সেই ইতিহাস বদলাতে মাঠে নামছে স্পেন। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা চাইছে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের পর আরও একটি বিশ্বকাপ নিজেদের করে নিতে।

বিশ্বকাপে এই দুই দলের একমাত্র দেখাই হয়েছিল ১৯৬৬ সালে। সেবার গ্রুপ পর্বে স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। প্রায় ছয় দশক পর এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এর মধ্যে দুই দলই জিতেছে ৬টি করে ম্যাচ, বাকি দুটি ড্র হয়েছে। ফলে পরিসংখ্যানেও এগিয়ে নেই কেউ।

মেসির শেষ অধ্যায়, ইয়ামালের নতুন সূচনা

এই ফাইনাল লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তি গড়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অধিনায়ক হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের নজির নেই।

অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল ইতোমধ্যেই স্পেনের আক্রমণের অন্যতম বড় অস্ত্র। ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বকাপও জিতে নিজের ক্যারিয়ারে আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায় যোগ করতে চান এই তরুণ।

দুই দলের শক্তি ও দুর্বলতা

স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের বল দখল, দ্রুত পাসিং এবং সংগঠিত আক্রমণ। রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ, লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের গতিময়তা এবং দলগত ফুটবল স্পেনকে করে তুলেছে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ।

তবে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক সামলাতে গিয়ে মাঝে মাঝে দুর্বলতা দেখা গেছে স্প্যানিশ রক্ষণভাগে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা লিওনেল মেসি। তাঁর পাশাপাশি রোমেরো-লিসান্দ্রো মার্তিনেজের শক্তিশালী রক্ষণ এবং গোলপোস্টে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের উপস্থিতি আলবিসেলেস্তেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

তবে মাঝমাঠে কখনও কখনও ছন্দ হারানোর প্রবণতা আর্জেন্টিনার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

কঠিন পথ পেরিয়ে ফাইনালে

ফাইনালের টিকিট কোনো দলই সহজে পায়নি।

গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু নকআউট পর্বে তারা নিজেদের সেরা রূপে ফিরে আসে। কঠিন প্রতিপক্ষদের হারিয়ে আবারও ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্কালোনির দল।

স্পেনও শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। তবে নকআউট পর্বে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেই তারা বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে জায়গা নিশ্চিত করে।

অপেক্ষা নতুন ইতিহাসের

এই ফাইনালের পর আর সমতায় থাকবে না দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যান। কোনো এক দল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখবে।

আর্জেন্টিনা কি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে নিজেদের সোনালি যুগকে আরও দীর্ঘ করবে? নাকি স্পেন আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে উঠে নতুন যুগের সূচনা করবে?

সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিট, কিংবা তারও বেশি সময়ের লড়াই শেষে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত