বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেনেগালের হারের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষদিকে দেওয়া সেই পেনাল্টি বিশ্বকাপে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকের প্রশ্ন—সত্যিই কি সেটি পেনাল্টি ছিল?
ঘटनাটি ঘটে ম্যাচের ১২০তম মিনিটে। বেলজিয়ামের আক্রমণ ঠেকাতে বক্সের ভেতরে নিচু ক্রস ক্লিয়ার করতে স্লাইডিং ট্যাকল করেন সেনেগালের মিডফিল্ডার লামিন কামারা। মাঠের রেফারি সাইদ মার্তিনেজ প্রথমে খেলা চালিয়ে দিলেও বল মাঠের বাইরে যাওয়ার পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ঘটনাটি পর্যালোচনার সুপারিশ করেন।
মনিটরে রিপ্লে দেখার পর রেফারি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টি দেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, কামারার ট্যাকলের সময় তাঁর পা বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার ইউরি টিলেমান্সের পায়ে আঘাত করে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সেনেগালের খেলোয়াড়রা।
পেনাল্টি কার্যকর করতে সময় লাগে সাত মিনিটেরও বেশি। এর আগে সময় নষ্টের অভিযোগে সেনেগালের মিডফিল্ডার পাথে সিস পেনাল্টি স্পটের কাছেই শুয়ে পড়েন, যা মাঠের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি থেকে গোল করে টিলেমান্স বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন এবং দলকে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেন।
তবে ম্যাচ শেষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল বলেন, তাঁর মতে এটি কোনোভাবেই পেনাল্টি ছিল না। আয়ারল্যান্ডের কিংবদন্তি রয় কিনও সিদ্ধান্তটিকে "অতিরিক্ত কঠোর" বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, রেফারি সিদ্ধান্ত নিতে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় নিয়েছেন, যা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিরই ইঙ্গিত দেয়।
সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াওও পেনাল্টির সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, "আমাদের বিশ্বাস, এটি পেনাল্টি ছিল না। এই একটি সিদ্ধান্তই আমাদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "৮৫ মিনিট পর্যন্ত আমরা ২-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু ফুটবল ৮৫ মিনিটের খেলা নয়। শেষ পর্যন্ত আমরা চাপ সামলাতে পারিনি এবং বেলজিয়াম সুযোগ কাজে লাগিয়েছে।"
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্পোর্টিং নিউজ জানিয়েছে, রিপ্লেতে দেখা যায় লামিন কামারা বল স্পর্শ করার আগেই টিলেমান্সের পায়ে আঘাত করেন। ফুটবলের আইন অনুযায়ী বক্সের ভেতরে এমন অসতর্ক ট্যাকল ফাউল হিসেবে গণ্য হতে পারে। সেই কারণেই ভিএআরের পরামর্শে রেফারি সাইদ মার্তিনেজ মনিটরে রিপ্লে দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।
আইনের দৃষ্টিতে সিদ্ধান্তটির পক্ষে যুক্তি থাকলেও, ম্যাচের গুরুত্ব এবং ফাউলটির মাত্রা বিবেচনায় এটি বিশ্বকাপের অন্যতম বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।