বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর রাজধানী বুয়েন্স আইরেসে সমর্থকদের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। ম্যাচ দেখতে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবে জানায়, নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে কয়েকজন সমর্থক একটি স্মৃতিস্তম্ভে ওঠার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশের দিকে কাচের বোতল ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষে সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ কোরিয়েন্তেস অ্যাভিনিউ থেকে বেলগ্রানো অ্যাভিনিউর দিকে অগ্রসর হলে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, রাস্তাজুড়ে ভাঙা কাচের বোতল ও সংঘর্ষে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী ছড়িয়ে রয়েছে। একটি ভিডিওতে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা মাটিতে পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে পুলিশের এক সদস্য লাথি মারছেন বলেও দেখা যায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালেও শেষ বাঁশি বাজার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্পেন ১-০ গোলে জয়ের পর দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিকে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেন। এ ঘটনার জেরে ম্যাচের রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ পারেদেসকে লাল কার্ড দেখান। পরে স্পেনের এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিরও বাকবিতণ্ডা হয়।
পরাজয়ের পরও জাতীয় দলের সম্মানে একদিনের রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। তবে সেই ছুটির নির্দিষ্ট তারিখ জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।