ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২১ নেতার বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে বৈঠক শুরু হয়। এর আগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা আলাদা গাড়িতে করে প্রায় একই সময়ে দিল্লির একটি তিনতলা ভবনে পৌঁছান।
বৈঠকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন নেতা বিভিন্ন দেশ থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে বর্তমানে নেই, তবে ভবিষ্যতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসতে পারেন—এমন কয়েকজন নেতাও দিল্লির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর ভারত চলে যান এবং এরপর থেকে দেশটিতে অবস্থান করছেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, তা সামনে রেখে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে শেখ হাসিনা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে হাজির হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।
বৈঠকে শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তাঁকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের আরও দুই নেতাকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে এসব নেতৃত্ব পরিবর্তন বা দল পুনর্গঠনের বিষয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।