রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের মতো ঘটনা যাতে অন্য এলাকায় পুনরায় না ঘটে, সে জন্য পুলিশকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার এবং রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদরদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আগস্ট মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সভায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। রাজধানীর সব অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এবং ৫০টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) সভায় উপস্থিত ছিলেন।
গত শুক্রবার গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। এ ঘটনায় মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গতকাল পর্যন্ত ৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের মিছিল প্রতিরোধে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমের কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে তদারক, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঢাকার আবাসিক হোটেলগুলোতেও নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সভায় ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ ধরনের অপরাধ দমনে থানার ওসিদের মাঠ পর্যায়ে অপারেশনাল কার্যক্রম সরাসরি তদারক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানীতে কোনো বার নিবন্ধন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান ও যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনার। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ করে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সে জন্য আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পর তা দ্রুত কাজে লাগাতে হবে। প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে হবে।
অপরাধ দমনে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার। পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে পুলিশ সদস্যদের ডিউটি করার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা তৈরি না হয় এবং দায়িত্ব পালনে ঘাটতি না থাকে।