বাজারে মাদকদ্রব্যে ভেজাল না থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে ভেজালের বিস্তার উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ বিষয়টি উত্থাপন করেন।
সম্পূরক প্রশ্নে সাবিকুন্নাহার বলেন, ফলের মৌসুমে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া গেলেও মানুষ নিরাপদ ফল বেছে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। কোন ফলে ফরমালিন রয়েছে, কোনটি ভেজালমুক্ত এবং কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ—তা সাধারণ ভোক্তার পক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “খাদ্যে ভেজালের এমন বাস্তবতায় মাদকে কোনো ভেজাল না থাকাটা সত্যিই বিস্ময়কর।” খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভেজাল প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল একটি অত্যন্ত গুরুতর ও জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সমস্যা। ভেজাল খাদ্যের কারণে ক্যানসার, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে এবং প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া জনপ্রশাসন উপদেষ্টার নেতৃত্বে খাদ্যদ্রব্য ভেজালমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ভেজালবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করবে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।