নতুন ব্যবস্থাপনায় ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথে ফিরছে ওয়াটার বাস

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দুই-তিন মাসের মধ্যে ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথে আবার চালু হবে ওয়াটার বাস

ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আগের ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের লোকসানের অভিজ্ঞতা থাকায় এবার নতুন ব্যবস্থাপনায় সেবাটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালু হলে নগরবাসীর যাতায়াত সহজ হবে এবং সড়কের যানজট কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে। তবে আগের ব্যবস্থাপনায় ১০ বছরে ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার নতুন ব্যবস্থাপনায় সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চের পরিবর্তে দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চ পরিচালনায় নৌযান মালিকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রুট ডিক্লারেশন, নৌ-সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার, টার্মিনালে মাইকিং এবং গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত নৌযানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

নৌপথের নাব্যতা বজায় রাখতে বর্তমানে দেশের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে বলে জানান নৌমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে দেশে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখা হয়েছে।

কর্ণফুলী নদীতে ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬১ লাখ ঘনমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হয়েছে। এর ফলে সদরঘাট-বাকলিয়ার চর এলাকায় নদীর গভীরতা ৮ মিটারে উন্নীত হয়েছে বলে জানান তিনি।

নদী দখল ও দূষণ প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সরাসরি উচ্ছেদের আইনি ক্ষমতা নেই। দখলদারদের তালিকা তৈরির পর স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরও জানান, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে দূষণের ৪২৪টি উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত