গুম–খুনের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয় ছবি: মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয় ছবি: মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের জন্য নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কল্যাণ, চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই হবে প্রস্তাবিত অধিদপ্তরের অন্যতম লক্ষ্য।

রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় অধিদপ্তর গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যাঁরা গুম, হত্যা, নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, পঙ্গুত্ব কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, রাষ্ট্র তাঁদের ত্যাগের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে চায়। তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু স্বীকৃতি নয়, ভুক্তভোগীদের কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলোও প্রস্তাবিত অধিদপ্তরের কার্যক্রমের আওতায় থাকবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার এমন নিপীড়নের শিকার না হয়, সে জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি স্থায়ী সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল চেতনা ছিল মানুষের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ সেই চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সভায় প্রস্তাবিত অধিদপ্তর গঠনের পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ সংশোধন করে এ-সংক্রান্ত দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘের ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার-সংক্রান্ত নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

আলোচনায় তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, ভুক্তভোগী ও পরিবারের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির জন্য রুলস অব বিজনেস সংশোধন।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য, শ্রম, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত