কোনো হানাহানি নয়, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনীতি করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে সংঘাত ও সংঘর্ষ এড়িয়ে গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতার চর্চা করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনায় বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মতাদর্শ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রচার করবে, তবে কোনো ধরনের সংঘাতে জড়ানো উচিত নয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো সহিষ্ণুতা। এই সহিষ্ণুতার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বাংলাদেশে ‘সমঝোতার রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানুষের অভাব দূর করা, শিক্ষার উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সবাই যেন বিভেদ ভুলে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভুল্লী ও রুহিয়াকে পৃথক উপজেলা করার দাবিও বাস্তবায়িত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে বিমানবন্দরকে কার্যকর ও টেকসই করতে এলাকায় কলকারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। এ লক্ষ্যে অর্থ উপদেষ্টা, বাণিজ্যমন্ত্রী ও চীনা রাষ্ট্রদূতের ঠাকুরগাঁও সফরের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তরুণদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং শুধু চাকরি বা ঠিকাদারির পেছনে না ছুটে নিজেদের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে সফরে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার দুপুরে তিনি সেখানে পৌঁছানোর পর জেলা সার্কিট হাউজে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।

বিকেলে ঐতিহাসিক বড় মাঠে তার সম্মানে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের আগে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পাশাপাশি মুষলধারে বৃষ্টি হলেও এতে সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া মানুষের উৎসাহে ভাটা পড়েনি।

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে পুরো ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও প্রবেশপথ ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ও আলোকসজ্জায় সাজানো হয়। সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত