কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেচ কাজে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত পানির পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সেচ কাজে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে কৃষকদের বিনামূল্যে সৌরবিদ্যুৎ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেসব এলাকায় ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়া হয়, সেগুলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ ও বিকল্প জ্বালানি উৎস সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা বিবেচনায় আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রও প্রণয়ন করা হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটেইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহ দিতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রয়োজনীয় পণ্য—সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও স্ট্রাকচারের ওপর বিভিন্ন শুল্ক ও কর থেকে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম বিবেচনায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের মূল্য ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুসরণ করে যেসব গ্রাহক আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন নীতিমালা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে বলেও সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে সরকারি জমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প উন্নয়ন নির্দেশিকা, বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নীতিমালা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, নেট মিটারিং গাইডলাইন, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেল এবং অনশোর উইন্ড গাইডলাইন রয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণে ব্যবহৃত ব্যাটারি প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে লেড ও লিথিয়াম—দুই ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। পরিবেশের জন্য লিথিয়াম ব্যাটারি তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেড ব্যাটারিতে অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই সরকার লিথিয়াম ব্যাটারির ব্যবহার উৎসাহিত করতে চায়। দেশে লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যতে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলকভাবে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়। কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এদিন প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে তিনটি প্রশ্ন ও সাতটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত