আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে যেকোনো সময় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পদ্মা নদীর ওপর পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পানিসম্পদমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে জিওপি প্রকল্প থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে একটি মেগা প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে ২৪টি জেলার কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগও তৈরি হবে।
তিনি জানান, ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কারিগরি সমীক্ষা করা হয়েছিল। পরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ হারুনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় ব্যারেজটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যারেজে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস, দুটি ফিশ পাস এবং একটি নেভিগেশন লক থাকবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।