ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে মিসরের ৩-২ গোলে হারের পর রেফারিং নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি মন্তব্য করেছেন, মিসর ‘ডাকাতির শিকার’ হয়েছে।
গত মঙ্গলবারের ম্যাচে মিসর ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। তবে শেষ ১৪ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি গোল করে নাটকীয় জয় তুলে নেয়। ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল মোস্তফা জিকোর করা একটি গোল বাতিল হওয়া। গোল হওয়ার প্রায় ২০ সেকেন্ড আগে সংঘটিত একটি ফাউলের কারণে ভিএআরের সহায়তায় ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে গোলটি বাতিল করেন।
মেয়র মামদানির মন্তব্য
নিউইয়র্কের নতুন বাসসেবা কর্মসূচি ‘নেক্সট স্টপ: বেটার বাসেস, ফাস্টার সার্ভিস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মামদানি মিসরের হারের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন,
‘এ বেঁচে যাওয়া সময়ের মানে হলো, আপনার বন্ধুদের সঙ্গে একমত হওয়া যে গতকাল মিসর আসলেই ডাকাতির শিকার হয়েছে।’
তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইজিপ্ট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আপত্তি
ম্যাচের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) রেফারি লেতেক্সিয়ে ও ভিএআর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়। ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়,
‘রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহারে যে ব্যর্থতা দেখা গেছে, সে বিষয়ে আমরা চুপ করে থাকতে পারি না।’
ইএফএর দাবি, একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
কেন গোল বাতিল হয়েছিল?
ফুটবল আইন বিশ্লেষকদের মতে, গোলের আগে একই আক্রমণপর্বে মিসরের একজন খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারকে জার্সি টেনে ও পায়ের ওপর পা রেখে ফাউল করেছিলেন। ভিএআর সেটি শনাক্ত করার পর রেফারি গোল বাতিল করেন।
তবে মিসর শিবিরের অভিযোগ, একই ম্যাচে আর্জেন্টিনার পক্ষে বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেগুলো ভিএআরে যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি।
বিতর্ক চলছেই
ম্যাচের পর মিসরের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাও রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, সম্ভাব্য পেনাল্টির দুটি ঘটনা যথাযথভাবে দেখা হয়নি এবং ভিএআর ব্যবহারে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা শিবিরের বক্তব্য, ম্যাচের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ফুটবলের প্রচলিত আইন অনুযায়ীই নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ হিসেবে আর্জেন্টিনা–মিসর লড়াইয়ের রেফারিং বিতর্ক এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।