ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি বলেছেন, পাহাড় কাটা, অবৈধভাবে গাছ নিধন এবং পাহাড়ে যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, খুব শিগগিরই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নতুন করে গঠন করা হবে।
রোববার খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে মহালছড়ির চৌংড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ও যন্ত্রনাথ কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে মীর হেলাল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব এবং সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তরা ৩০ টাকা কেজি দরে ওএমএসের চাল এবং ১৫ টাকা কেজি দরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
পরে মাইছড়িতে ওএমএস কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে বিকেলে সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন,
‘পাহাড় কাটা, গাছ কাটা ও পাহাড়ে যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, অতীতে যেসব এলাকায় নির্বিচারে গাছ কাটা হয়েছে, সেখানে নতুন করে বৃক্ষরোপণ করা হবে এবং সেসব বনাঞ্চলের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সব জনগোষ্ঠীর সমান উন্নয়নে বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো বিভাজন চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশি। পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই সরকার কাজ করছে।’
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। এছাড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরফানুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. এম.এন. আবসার, মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরাও অংশ নেন।