ভারত নাকি দুবাই? ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সালের ভিডিও নিয়ে মুখ খুলল পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্টঃ
 ছবি:
ছবি:

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে ফয়সাল নিজেকে নির্দোষ দাবি করার পাশাপাশি নিজের অবস্থান নিয়েও নতুন তথ্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে এবার মুখ খুলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার জানান, ফয়সালের ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে।

ভিডিও বার্তা ও পুলিশি তথ্যে গরমিল ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ দাবি করে আসছিল, মামলার প্রধান আসামি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা ফয়সাল করিম এবং তার সহযোগী আলমগীর শেখ ভারতে পালিয়ে গেছেন। গত ২৮ ডিসেম্বর পুলিশের পক্ষ থেকে এমন তথ্য জানানো হয়েছিল। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ফয়সাল দাবি করেছেন, তিনি ভারতে নয়, বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। এমনকি ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সাথে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ভিডিওর এই দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী প্রথমে ‘নো কমেন্টস’ বললেও, পরে জানান, “ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা এটি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করছি। তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া হবে।”

ফ্যাক্ট চেকাররা ইতিমধ্যে ভিডিওটি এডিট করা নয় বা ‘আসল’ বলে নিশ্চিত করলেও, তিনি আসলেই দুবাইয়ে আছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও তদন্তের অগ্রগতি গেল বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় নির্মমভাবে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, ফয়সাল করিমই ছিলেন সেই গুলিবর্ষণকারী। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে চিহ্নিত করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফয়সালের বাবা-মা এবং স্ত্রীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে ৬ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

ভিডিওটি প্রকাশের পর তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—ফয়সালের প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করা এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত