জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী মাহিমা আক্তারকে হেনস্তা করা এবং জোর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভুক্তভোগী মাহিমা আক্তার ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন। তিনি হিজাব ও নেকাব পরিহিত ছিলেন। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তার পরিচয় জানতে চান। অভিযোগ রয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা মাহিমা আক্তারকে জোরপূর্বক নেকাব ও মাস্ক খুলতে বলেন। একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পুলিশের একটি কাভার্ড ভ্যান আটকে তার সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং মাহিমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে পরবর্তীতে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।
অভিযুক্ত যারা ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দীন বাসিত, শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম এবং বর্তমান সদস্য সচিব সামছুল আরেফিনসহ ছাত্রদলের অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও প্রার্থীর বক্তব্য হেনস্তার শিকার মাহিমা আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলাম, সাথে আমার একজন আত্মীয়ও ছিলেন। ছাত্রদলের ভাইয়েরা এসে আমাকে হেনস্তা করে। আমি হিজাব পরিহিত থাকায় আমাকে হিজাব ও মাস্ক খুলতে বাধ্য করা হয়।”
এ বিষয়ে জকসু নির্বাচনে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এবং শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “তিনি আমার স্ত্রী এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বাইরে আমাদের প্যানেলের হয়ে কাজ করছিলেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘মব’ সৃষ্টি করে তাকে হেনস্তা করেছে। এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
প্রশাসনের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর দ্রুত সমাধান করে দেওয়া হয়েছে।