রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট নিয়ে কারসাজি ও অনিয়মের অভিযোগে বড়সড় অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিমানের নিজস্ব তদন্তে টিকিট জালিয়াতিতে জড়িত ১০টি চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি ট্রাভেল এজেন্সি ও ৬ জন ব্যক্তি। অভিযুক্তদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জালিয়াত চক্রের ‘মূল হোতা’ ও নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠান তদন্তে টিকিট জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা হিসেবে ‘বন ভয়েজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ওভারসিজ’ নামের একটি এজেন্সিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করা আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
-
বন ভয়েজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ওভারসিজ (মূল হোতা)।
-
ইডেন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস।
-
ক্রিয়েটিভ ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস।
-
গাইবান্ধাভিত্তিক একটি সাব-এজেন্ট প্রতিষ্ঠান।
ইতিমধ্যেই এই সংগঠিত চক্রের আইএটিএ (IATA) আইডি এবং ইনভেন্টরি অ্যাকসেস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে হতো জালিয়াতি বিমানের রাজস্ব শাখার তথ্যমতে, গত ২৩ ডিসেম্বর টিকিট ইস্যু ও পেমেন্ট প্যাটার্নে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। তদন্তে দেখা যায়, কিছু অসাধু ট্রাভেল এজেন্ট বিমানের আইটি সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা ও নীতিগত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অননুমোদিতভাবে টিকিট ইস্যু করছিল।
-
তারা যাত্রীদের ভুয়া তথ্য ব্যবহার করত।
-
টিকিট চূড়ান্তভাবে ইস্যু করার আগে তা ৩-৪ বার হাতবদল হতো।
-
ফলে সাধারণ যাত্রীদের টিকিটের জন্য অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হতো এবং বিমান বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ত।
বিমানের জিরো টলারেন্স এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, “কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সির ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনে অনিয়ম পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারের কঠোর অবস্থান ও নতুন আইন টিকিট বিক্রিতে যেকোনো ধরণের কারসাজি ও দুর্বৃত্তায়ন বন্ধে সরকারও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, টিকিট সংক্রান্ত প্রতারণা বা হয়রানির অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড-এর বিধান রেখে দুটি অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়মে, কোনো ট্রাভেল এজেন্সি যদি ১১টি নির্দিষ্ট অপরাধের যেকোনো একটি করে, তবে তাদের লাইসেন্স বাতিল কিংবা স্থগিত করা হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫—এর আওতায় এই বিচার করা হবে।