৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল, ব্যালন ডি’অর নিয়ে যা বললেন হ্যারি কেইন

স্পোর্টস ডেস্ক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বয়স বাড়ার সঙ্গে হ্যারি কেইনের গোল করার ক্ষুধা যেন আরও বেড়েই চলেছে। টটেনহ্যাম হটস্পারে থাকাকালে এক মৌসুমে তাঁর সর্বোচ্চ গোল ছিল ৪১টি। ২০১৭-১৮ মৌসুমে সেই কীর্তি গড়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী কেইন।

২০২৩ সালে ৩০ বছর বয়সে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পরও গোলের ধারায় ভাটা পড়েনি ইংলিশ এই স্ট্রাইকারের। বায়ার্নের হয়ে প্রথম তিন মৌসুমে তিনি যথাক্রমে ৪৪, ৪১ ও ৬১ গোল করেছেন। এর সঙ্গে ইংল্যান্ডের হয়ে ১২ গোল যোগ করলে গত মৌসুমের পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল।

এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় উঠে এসেছে কেইনের নাম। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ব্যতিক্রমী। ২০১১-১২ মৌসুমে ৬৯ ম্যাচে লিওনেল মেসির ৮২ গোলের পর কেইনের ৭৩ গোলই সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় গোলসংখ্যা।

বায়ার্নের হয়ে গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জিতেছেন কেইন। বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে ছয় গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলতে ভূমিকা রাখেন তিনি। ফলে ইংল্যান্ডের ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে ব্যালন ডি’অর নিয়ে কেইনকে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

তবে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কেইনের পাশাপাশি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালও আলোচনায় রয়েছেন। এমবাপ্পে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে তোলার পথে গোল্ডেন বুট জিতেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ৪২।

অন্যদিকে বার্সেলোনার হয়ে ইয়ামাল গত মৌসুমে ২৪ গোল করার পাশাপাশি ১৮টি গোলে সহায়তা করেছেন। বিশ্বকাপ ও লা লিগাতেও তাঁর পারফরম্যান্স আলোচনায় এসেছে।

নিজের সম্ভাবনা নিয়ে মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেইন বলেন, নিজেকে নিয়ে বেশি কথা বলতে তাঁর ভালো লাগে না। তবে গত মৌসুমকে নিজের জীবনের সেরা মৌসুমগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যালন ডি’অর তাঁর হাতে নেই এবং এটি ভোটদাতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তাঁর মতে, ৭৩ গোলই তাঁর পারফরম্যান্সের অনেকটা বলে দেয়।

এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান কেইনের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। প্রথমবারের মতো লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। কেইনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা লন্ডনে হওয়ায় বিষয়টি তাঁর কাছে বিশেষ অনুভূতির বলে জানিয়েছেন তিনি।

কেইন বলেন, নিজের শহরে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হওয়াটা তাঁর জন্য বিশেষ একটি ব্যাপার। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, সেটি দেখার অপেক্ষায় আছেন তিনি।

৩৩ বছর বয়সেও গোল করার আনন্দ তাঁর কাছে আগের মতোই রয়েছে। গোল উদ্‌যাপনে কখনো ক্লান্তি আসে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কেইন বলেন, গোল করার অনুভূতিই সবচেয়ে দারুণ। খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর এই অনুভূতিকে তিনি খুব মিস করবেন বলেও জানান।

কেইনের বর্তমান ফর্ম ধরে রাখার পেছনে ব্যক্তিগত ক্রীড়া চিকিৎসক আলেহান্দ্রো এলোরিয়াগার অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। কেইন জানান, প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে এলোরিয়াগার সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁর মতে, বয়স বাড়লেও পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পর্দার আড়ালে করা এই কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কেইন বলেন, অনেকের ধারণা বয়স বাড়ার সঙ্গে পারফরম্যান্স কমে যায়। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত পারফর্ম করতে পারার পেছনে এলোরিয়াগার অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত