বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সঠিক ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার আহ্বান

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমাজে সঠিক ও ইতিবাচক ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বুধবার ঢাকার গুলশানের লেকশোর হোটেলে কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস আয়োজিত ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন : নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, রাজনীতি, ধর্ম ও জেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ পর্যালোচনা করে বাস্তবতা ও তথ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্মসহ সমাজের সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

নারীর পরিচয়কে শুধু কন্যা, মা বা স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজে নারীর বহুমাত্রিক পরিচয় ও সক্ষমতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রচলিত সামাজিক ধারণাগুলো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রচলিত কিছু সামাজিক ধারণার পরিবর্তন প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভালো ছাত্র বা মেধাবী হওয়ার পরও কেউ রাজনীতিতে যুক্ত হলে তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এ ধরনের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শারীরিক শক্তির চেয়ে যোগ্যতা, অংশগ্রহণ ও জনগণের আস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, সব শিশুর কাছে মানসম্মত শিক্ষা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পর্যায়ক্রমে মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও কার্যকর সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, হাওরসহ দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের জন্য অবকাঠামো, শিক্ষক উপস্থিতি, আবাসন ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পৃথকভাবে কাজ করা হচ্ছে। এসব এলাকায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় স্যানিটারি সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন করার লক্ষ্যে পাইলট উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আন্না মিনজ, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি ও সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত