ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর এ তথ্য জানায়।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ভবনটিতে ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল। হামলায় ভবনটি আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো অনেক পরিবার সেখানে বসবাস করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত ছয়টি পরিবারের সদস্য ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন শিশু বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভবন ধসের ঘটনায় ইসরায়েলকে দায়ী করেছে গাজার কর্তৃপক্ষ। গাজার গণমাধ্যম দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনার জন্য ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দায়ী। তাদের দাবি, বহুতল আবাসিক ভবনটি ধসে পড়ার ঘটনা গাজায় চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পর উপত্যকাটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের ফলে গাজার প্রায় ৯২ শতাংশ আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন।