পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি বিক্ষোভকারী সংগঠনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সংঘটিত এ সহিংসতা আঞ্চলিক নির্বাচনকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সাতজন বিক্ষোভকারী, একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
জানা গেছে, আঞ্চলিক পরিষদের সংরক্ষিত ১২টি আসনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত এসব আসন স্থানীয় জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকে দুর্বল করছে।
পুঞ্চ বিভাগের কমিশনার ওয়াহিদ খান রয়টার্সকে জানান, পুঞ্চ জেলার তারারখাল এলাকায় বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরের গতিরোধ করেন এবং কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ব্যবস্থা নেন।
তারারখালের সংঘর্ষে ছয়জন বিক্ষোভকারী ও একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। অন্যদিকে রাওয়ালাকোটে পৃথক আরেকটি সংঘর্ষে একজন বিক্ষোভকারী ও একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারান।
এদিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গত জুন মাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) বুধবার রাওয়ালাকোট অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে। তবে কমিশনার ওয়াহিদ খান বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের শহরে প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান করছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে শুরু হওয়া অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন। আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।