খুলনা নগরীতে সাংবাদিকদের নিয়মিত আড্ডাস্থলে মোটরসাইকেলে এসে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গুলির স্প্লিন্টারের আঘাতে এক সাংবাদিক সামান্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে নগরের জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশে জলিলের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমাদের সময়-এর খুলনা প্রতিনিধি সৈয়দ হুমায়ুন কবির, এসএ টিভির প্রতিনিধি রকিবুল ইসলাম, স্টার নিউজের প্রতিনিধি রফিউল ইসলাম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর প্রতিনিধি আওয়াল শেখ এবং খুলনা সদর থানা বিএনপির নেতা মোফাশ্বের আলম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে কয়েকজন সাংবাদিক চায়ের দোকানের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় সাতরাস্তা এলাকার দিক থেকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুই হেলমেটধারী যুবক তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি চালিয়েই দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
গুলির একটি স্প্লিন্টার সাংবাদিক আওয়াল শেখের শরীরে লাগে। তবে তিনি সামান্য আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
সাংবাদিক সৈয়দ হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কেন তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম জানান, তারা চার থেকে পাঁচজন বসে কথা বলছিলেন। হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি এসে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তাঁর বসার টুলে আঘাত করে। এরপর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে সাংবাদিক রফিউল ইসলামের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত। তাঁর মতে, সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে কাউকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার পর খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। একটি ফুটেজ পাওয়া গেলেও সেটি স্পষ্ট নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন। সংগঠনটির নেতারা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।